হৃদরোগ ও লাইফস্টাইল ডিজিজ: সচেতনতার সময় এসেছে

বিংশ শতাব্দীর ৭০ ও ৮০-এর দশকে বাংলাদেশে অধিকাংশ মৃত্যুর কারণ ছিল সংক্রামক রোগ। তবে সময়ের সাথে সাথে, চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির কারণে সংক্রামক রোগে মৃত্যুর হার কমতে শুরু করে। বর্তমানে, অসংক্রামক রোগের মধ্যে হৃদরোগ অন্যতম প্রধান মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠেছে। ২০১৪ সালে অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর হার ৫৯% এবং ২০১৬ সালে তা বেড়ে ৬৭% হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদরোগের এই উত্থানের পেছনে রয়েছে জীবনাচার এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, যেমন অতিরিক্ত প্রাণিজ আমিষ ও শর্করা গ্রহণ, ধূমপান এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশে, প্রতি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত, এবং প্রতি দশজনের একজন ডায়াবেটিসে ভুগছেন। জীবনযাত্রার এই ভুলগুলো দ্রুত বর্ধনশীল স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি করছে, যা ডাক্তারদের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের চিকিৎসা ইতিহাস উদাহরণ হিসেবে কাজ করছে। বাইপাস সার্জারির পর, তিনি সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য খাদ্যাভ্যাসে আমূল পরিবর্তন আনেন, যা তার স্বাস্থ্যের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষণা প্রমাণ করে যে, সঠিক জীবনদৃষ্টি এবং খাদ্যাভ্যাস হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারে। তাই আমাদের উচিত স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের দিকে মনোযোগ দেওয়া, যাতে হৃদরোগ এবং অন্যান্য লাইফস্টাইল ডিজিজ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
প্রকাশিত: ৬ অক্টোবর, ২০২৪ এ ১১:২৫ AM