ঢাকা | শনিবার, ৩০রা আগস্ট ২০২৫

ইলিশের আকাশচুম্বী দাম: সিন্ডিকেটের কূটচাল না কমছে মাছের মজুত?

বাংলাদেশের খাদ্য সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ইলিশ মাছ। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ইলিশের দাম পৌঁছেছে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। সিন্ডিকেটের কারসাজি, সরবরাহ শৃঙ্খলের অনিয়ম এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় ইলিশের মূল্য আকাশচুম্বী হয়েছে। সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বাজারে মাছের দাম নিয়ন্ত্রণের অন্যতম কারণ হিসেবে সিন্ডিকেটের ভূমিকা সামনে এসেছে। ইলিশ মাছের ব্যবসায় সিন্ডিকেটের অবৈধ প্রভাব ব্যাপক। এরা পাইকারি এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চুক্তি করে কৃত্রিমভাবে মাছের দাম বাড়িয়ে রাখে। ফলে বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ থাকলেও ইলিশের দাম কমছে না। প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও মাছের প্রজনন সংকট বাংলাদেশের নদী ও সাগরে ইলিশের মজুত কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার ওপর সঠিক নিয়ন্ত্রণ না থাকা। প্রজননকালীন সময়ে পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় মাছের প্রজনন কমে যাচ্ছে। এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশগত দূষণও ইলিশের সংখ্যা হ্রাসের কারণ হিসেবে কাজ করছে। সরবরাহ শৃঙ্খলের অসঙ্গতি সরবরাহ শৃঙ্খলে অসঙ্গতির কারণে ইলিশের মূল্যবৃদ্ধি আরও বেশি হচ্ছে। আড়তদার, পাইকারি ব্যবসায়ী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ধাপে দাম বাড়িয়ে দেন, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের জন্য মূল্যবৃদ্ধির কারণ হয়। এছাড়া পরিবহনের সময় অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ এবং নিরাপদ সংরক্ষণের অভাবও এই সমস্যার একটি অংশ। সমাধানের পথ ইলিশের দাম নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য। সরকারকে সরবরাহ শৃঙ্খলের বিভিন্ন ধাপে সুষ্ঠু তদারকি করতে হবে এবং প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে। পরিবেশগত বিষয়েও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে ইলিশের প্রজনন এবং উৎপাদন ব্যাহত না হয়।

প্রকাশিত: ২ অক্টোবর, ২০২৪ এ ১১:২৯ AM

আজকের সর্বশেষ