জামায়াতের উদ্যোগ: ইসলামপন্থী দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পরিকল্পনা

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশের বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোকে একত্রিত করার জন্য আলোচনা শুরু করেছে। দলটির নেতাদের মতে, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইসলাম ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা অপরিহার্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াতে ইসলামী এবং অন্যান্য ইসলামপন্থী দলগুলো একত্রিত হলে তারা নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। ইতোমধ্যে জামায়াত ইসলামি শাসনতন্ত্র আন্দোলন, লেবার পার্টি, এবং ইসলামী আন্দোলনসহ বেশ কিছু ইসলামী দলের সঙ্গে আলোচনা করেছে। জামায়াতের মুখপাত্র মতিউর রহমান আকন্দ জানান, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো আগামী নির্বাচনের আগে নিবন্ধিত দলগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা। তবে দলের নেতা গাজী আতাউর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, পুরো বিষয়টি নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। বিগত সময়ে জামায়াত রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তারা এককভাবে কখনো নির্বাচনি রাজনীতিতে সফল হতে পারেনি। তবে বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে জামায়াতের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এছাড়া, জামায়াতের ইতিহাস অনুসারে, ২০০১ সালে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে সরকারের অংশ হওয়া ও ২০১৩ সালে হাইকোর্টের মাধ্যমে নিবন্ধন বাতিল হওয়ার বিষয়গুলো তাদের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও জটিল করেছে। যদিও কিছু ইসলামপন্থী দলের মধ্যে জামায়াত প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদীর কিছু বক্তব্য নিয়ে আপত্তি আছে, তবুও জামায়াত আশা করছে যে, একত্রিত হওয়া তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে, জামায়াতের এই উদ্যোগটি এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে হচ্ছে, যা তাদের আগামী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তুলবে।
প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ এ ৩:১৫ PM