বাড্ডায় গণপিটুনিতে তাসলিমা বেগম রেণুর হত্যার মামলার রায় আজ

রাজধানীর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে তাসলিমা বেগম রেণুকে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হচ্ছে। সোমবার, ঢাকার ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ মোরশেদ আলমের আদালতে এ রায় প্রত্যাশিত। ২০১৯ সালের ২০ জুলাই সকালে উত্তর বাড্ডার স্থানীয় একটি স্কুলে মেয়েকে ভর্তি করাতে গিয়ে তাসলিমা বেগম রেণুর ওপর হামলা চালানো হয়, যেখানে তাকে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়। হত্যার ঘটনার পরই রেণুর বোনের ছেলে নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় অজ্ঞাতনামা ৫০০ জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনাস্থলে জড়িত কয়েকজনকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করে। ২০২০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়, এবং পাশাপাশি অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিটও দাখিল করা হয়। মামলায় আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— ইব্রাহিম ওরফে হৃদয় মোল্লা, রিয়া বেগম ময়না, আবুল কালাম আজাদ, কামাল হোসেন, মো. শাহিন, বাচ্চু মিয়া, মো. বাপ্পি ওরফে শহিদুল ইসলাম, মুরাদ মিয়া, সোহেল রানা, আসাদুল ইসলাম, বেল্লাল মোল্লা, মো. রাজু ওরফে রুম্মান হোসেন, এবং মহিউদ্দিন। ২০২১ সালের ১ এপ্রিল আদালত উল্লিখিত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সমাজে একাধিক প্রশ্ন ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, এবং বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। আজকের রায়টি সবার নজর কেড়েছে এবং এটি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে, এবং তারা বিচার বিভাগ থেকে ন্যায্যতা প্রত্যাশা করছে। তাসলিমা বেগম রেণুর পরিবারের জন্য এটি একটি কঠিন সময়, এবং তারা আশা করছেন যে আদালত তাদের প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় রায় প্রদান করবে। এই মামলার রায়কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার ঝড় উঠেছে, যেখানে অনেকেই নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলছেন এবং একই সাথে সমাজে ছেলেধরা সন্দেহের মতো ভুল ধারণার বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছেন।
প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ এ ১২:২৬ PM